News before News

ধকল কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর উপায় খুঁজছে বিএনপি, শক্তি ক্ষয়ে অনীহা

একের পর এক গ্রেফতার, আন্দোলন, দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা, মামলা ও আদালতে হাজিরায় কাবু নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নিজেদের ঘুরে দাঁড়ানোর উপায় খুঁজছে। দলের নেতাকর্মীদের কিভাবে সংগঠিত করে দলের কাজে লাগানো যায় এবং আগামী নির্বাচন ও আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত করা যায় সেটিও ভাবছেন নেতারা।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপিসহ দলের প্রায় সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দীর্ঘ সময়ে ক্ষমতার বাইরে থেকে মামলা মোকাদ্দমা, গ্রেফতার, হাজিরা, আন্দোলন সহ নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে কিছুটা কাবু হয়ে পড়েছেন। অনেক নেতাকর্মীরা হারিয়েছেন মনোবল আবার অনেকেই আপাতত অবসর নিতে চাইছেন দল থেকে। তবে দলের নেতাকর্মীদের এমন অবস্থাকে কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য পথও খুঁজছেন নেতারা।

দলের সিনিয়র নেতারা এখনো আন্তঃকোন্দলে থাকলেও এবং মনোনয়ন নিয়ে নিজেদের মধ্যে দূরত্ব ধরে রাখলেও নেতাকর্মীরা চাইছেন সেই অবস্থার অবসান। দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারাও চাইছেন এখন আর দূরত্ব নয় দল ও দেশের স্বার্থে নেতাকর্মীদের জন্য এক হয়ে কাজ করতে। তবে দলের একটি অংশই এতে প্রধান বাধা হয়ে দাড়াচ্ছে।

একতাবদ্ধ হওয়া ছাড়া আগামীতে নিজেদের অস্তিত্ত সংকটে পড়তে পারে এমন আশঙ্কাও করছেন দলের নেতারা। এবার যদি আন্দোলন অথবা নির্বাচনে দল ব্যর্থ হয় তবে দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে দলের কর্মীদের জন্যও অপেক্ষা করছেন ভয়াবহ অবস্থা যা থেকে হয়তো কাটিয়ে উঠা কষ্টকর হয়ে পড়বে দলের জন্য। তাই অতদূর পর্যন্ত না যেয়ে তার আগেই দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে দ্রুত পথ খুঁজছেন নেতারা। দলের এই অবস্থা নিরসনে কেন্দ্র থেকেও দ্রুত সকল বিভেদ ভুলে সকলকে এক হতে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

দলের বিভিন্ন কর্মসূচী এবং এই মুহূর্তে সরকার পতনের আন্দোলনে গিয়ে নিজেদের শক্তি ক্ষয় করতে চাইছেন বিএনপি। এ জন্য দলের কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচীতেও দেখা মেলছেনা নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাদের। তবে মাঠে নামতেও বর্তমান অবস্থা আরো কিছুটা পর্যবেক্ষন করে অপেক্ষা করছেন দলটির নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগরের শীর্ষ নেতারা।

জানা যায়, গত ৮ ফেব্রুয়ারি একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে রয়েছেন। তিনি কারাগারে যাবার আগে থেকেই তিনি নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়ে গেছেন একেবারেই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচী পালিয়ে যেতে এবং কোনভাবেই সরকারের পাতা ফাঁদে পা না দিতে। নেতাকর্মীরাও তার কথা অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচী চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে কেন্দ্র থেকে ঘোষণা দেয়া নেত্রীর মুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীগুলো পালন করছেনা নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। দলের শীর্ষ নেতাদের রাজপথে দেখা যাচ্ছেনা। জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে তো নামছেই না তারা যোগাযোগও করছেন না দলের তৃণমূলে। অপরদিকে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় কর্মসূচীগুলোতে নিজেরা অলিগলিতে ছবি তুলে নিজেদের দায়িত্ব সম্পন্ন করছেন।

দলের সিনিয়র নেতারা জানান, আপাতত কর্মসূচীগুলো পালন করে দলের নেতাকর্মীরা টিকে থাকবে এবং সামনের জন্য অপেক্ষা করবে। অবস্থা বুঝে শক্তি ক্ষয় না করে শক্তিকে সঞ্চয় করা হচ্ছে। আগামীতে সময় সুযোগমত মাঠে নেমে সরকারের অন্তিমসময়কে টেনে আনবে দলের নেতাকর্মীরা। তবে এখনই যদি মাঠে নেমে শক্তি ক্ষয় করে ফেলে দলের নেতাকর্মীরা তবে সেটি আগামীর জন্য ভালো হবেনা তাই আপাতত অপেক্ষাই করছে দলের নেতারা।

আপনার এগুলো পছন্দ হতে পারে