News before News

নূর হোসেনের সহোদরের শেল্টারে জমি দখলের চেষ্টা, মামলা করে বাদি বিপাকে

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ৭ খুন মামলায় ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত নূর হোসেনের তিন সহোদরের শেল্টারে জমি দখলের চেষ্টার ঘটনায় মামলা দায়ের করেও বিপাকে রয়েছে মামলার বাদি ও তার পরিবার। মামলার আসামীরা আদালত থেকে জামিনে এসে বাদি ও তার পরিবারকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে ও হুমকী দিচ্ছে। মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে তাদেরকে হয়রানী করারও হুমকী দিচ্ছে। সিদ্ধিরগঞ্জের আটি এলাকায় হাউজিং এলাকায় ২৫ বছর ধরে তাদের ভোগ দখলে থাকা জমি জবর দখলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করার অভিযোগ নূর হোসেনের তিন সহোদর নূর ইসলাম, নূর ছালাম ও নুরুজ্জামান ওরফে জজ মিয়ার বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (১৫ মে) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের হানিফ খান মিলনায়তনে ‘ভূমিদস্যুতার কবল থেকে রক্ষা করো’ এ ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন মামলার বাদি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪নং ওয়ার্ডের সিদ্ধিরগঞ্জের আটি এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার মোল্লা। এসময় উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী হাজেরা বেগম, বড় ছেলে মাসুদ রানা, মেঝো ছেলে সুমন মাসুদ, ছোট ভাই মান্নান মোল্লা ও তার স্ত্রী তাসলিমা বেগম প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে আব্দুস সাত্তার মোল্লা বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জের আটি হাউজিং এলাকায় ২৫ বছর ধরে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন আব্দুস সাত্তার মোল্লা। ১১ শতাংশ জমি পৈত্রিক ও খরিদ সূত্রে তারা মালিক। এই জমির কাগজপত্র সোনালী ব্যাংক এ মর্গেজ রেখে ৬ লাখ ঋণ নিয়েছেন। গত মাসের ২০ এপ্রিল সকালে তার ওই জমিতে সেমিপাকা টিনসেড বিল্ডিং নির্মাণের কাজ শুরু করলে সাতখুন মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেনের তিন ভাই নূর ইসলাম, নূর ছালাম ও নূরুজ্জামান ওরফে জজ মিয়ার নেতৃত্বে ও তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আসামী আব্দুল জলিল মোল্লা, আলাউদ্দিন মোল্লা, মোসলে উদ্দিন মোল্লা, আব্দুস ছালাম মোল্লা, ইব্রাহিম মিয়া, মিনহাজ ও লিটন ওই জমির মালিকানা দাবি করে কাজ বন্ধ রাখার চাপ প্রয়োগ করে। এসময় আব্দুস সাত্তার মোল্লা জমির বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাইলে আসামীরা কাগজপত্র দেখা ব্যর্থ হয়। পরে বাদির নিয়োজিত শ্রমিকরা নির্মাণ কাজ অব্যহত রাখতে চাইলে বাদির নিকট বিচার সালিশে করবে এ জন্য হাত খরচের জন্য নূর হোসেনের দুই ভাই নূর ছালাম ওরফে বোবা ডাকাত ও নূরুজ্জামান জজ ওরফে ছোট মিয়া ২ লাখ টাকা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন। এসময় ওই দাবিকৃত ২ লাখ টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ার জমির মালিক আব্দুস সাত্তার মোল্লাকে এলোপাথারী চর, থাপ্পর, কিল, ঘুষি মারিয়া রক্তাক্ত জখম করে এবং তার সঙ্গে থাকা ৭০ হাজার টাকা মূল্যের একটি আইফোন ও মালামাল ক্রয় বাবদ তার সঙ্গে থাকা নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জোর পূর্বক ছিনিয়ে নেয়। এসময় বাদির ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন ও শ্রমিকগণ এগিয়ে আসলে ২ লাখ টাকা চাঁদা প্রদানের হুমকী দিয়ে আসামীরা চলে যায়। এ বিষয়ে ২১ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করলে থানা পুলিশ মামলা না নিয়ে নানা টালবাহানা করতে থাকায় বাদী আদালতের আশ্রয় নিয়ে ওই পিটিশন মামলাটি (নং-২০৭) দায়ের করলে ৩০ এপ্রিল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ হুমায়ুন কবীর এর আদালতে শুনানী শেষে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জকে এফআইআর হিসেবে গণ্য করতে নির্দেশ প্রদান করেন।

আব্দুস সাত্তার মোল্লা আরো বলেন, মামলাটি রেকর্ডের পরে ১১ মে রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই ভূমিদস্যু আলাউদ্দিন মোল্লা (৩৮) ও মোসলে উদ্দিন মোল্লাকে (৩৪) গ্রেফতার করে। পরে ১৩ মে আসামীরা আদালত থেকে জামিনে এসে বাদি ও তার ছেলেদেরকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আসামীরা হুমকী দিচ্ছে বাদি ও তার ছেলেদের খারাপ প্রকৃতির নারী দিয়ে গ্রেপ্তার করানোসহ মিথ্যা মামলা এমনকি পেন্ডিং হত্যা মামলায় গ্রেফতার করাবে। প্রয়োজনে তাদেরকে প্রাণে মেরে ফেলবে। ছলে বলে কৌশলে যেভাবেই হোক তারা আমার মালিকানাধীন সম্পত্তি নিজেদের দখলে নিবে। এজন্য কোটি টাকা খরচ করতে হলেও তারা পিছপা হবে না। ভূমিদস্যুদের কবলে পড়ে বাদি ও তার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

মামলায় নূর হোসেনের তিন সহোদরের নাম কেন দেয়া হয়নি এমন প্রশ্নের উত্তরে বাদি বলেন, নিজেদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই মামলায় তাদেরকে আসামী করিনি। কিন্তু তারপরেও তারা আমাদেরকে নানাভাবে হুমকী দিচ্ছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, অন্যায় ভাবে কেউ কোন জমি দখল করতে গিয়ে শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্ট করলে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিবে।

আপনার এগুলো পছন্দ হতে পারে