News before News

মোবাইল-মেসেঞ্জার আতঙ্কে বিএনপি নেতাকর্মীরা

বুধবার দুপুর প্রায় ১২টা। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অন্য দিনের চেয়ে নেতাকর্মী সংখ্যা তুলনামূলক কম। যারা আসছেন তারাও দ্রুত কাজ সেরে কিংবা দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদের সঙ্গে কথা বলে বেরিয়ে যাচ্ছেন। রিজভী আহমেদ নিজেও আছেন গ্রেফতার আতঙ্কে।

বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের আশপাশে তখন কোনো পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন না ছিল না। কিন্তু অজানা আতঙ্কেই যেন দ্রুততার সঙ্গে কার্যালয়ে ছাড়ছেন নেতাকর্মীরা।

বিএনপির সিনিয়র একজন নেতা বারবারই তখন তাড়া দিচ্ছেলেন, সংবাদকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের আশপাশে দায়িত্বরত আছেন কিনা তা নজরে রাখতে। ওই নেতা মনে করেন, সংবাদকর্মীরা থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হলে অন্তত সংবাদটি দ্রুত দেশের মানুষ জানতে পারবে।

একই সময়ে বিএনপি কার্যালয়ে আরেক সিনিয়রে নেতা দেখা করতে আসা কর্মীদের পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন, ‘যথাসম্ভব মোবাইল ফোন এবং ফেসবুক কম ব্যবহার করবে। মোবাইল আর ফেসবুক হাঁটতে হাঁটতে চালাবেন না…’

বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলটির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে মোবাইল ফোন এবং মেসেঞ্জারে যুক্ত মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে আটক করা হয়েছে বা আটকের চেষ্টা হয়েছে। এমনকি কর্মীরা তাদের যে মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সেটাও ট্র্যাকিংয়ের আশঙ্কা করছেন নেতারা। এ থেকেই মোবাইল ফোন এবং মেসেঞ্জার আতঙ্গে ভুগছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য, কল ট্র্যাকিং এড়াতে গত তিন-চার বছর ধরেই মোবাইল ফোনের চেয়ে অনলাইনভিত্তিক কথোপকথনের অ্যাপসগুলোতে যোগাযোগে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য ড. খন্দাকার মোশারফ হোসেনও স্বীকার করেছেন তারা তাদের মোবাইল ফোনের ট্র্যাকিংয়ের আতঙ্কে ভোগেন।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘নেতাকর্মীদের ফোন ট্র্যাকিং হয়। এগুলো হবে। এগুলো কয়দিন চলবে? এগুলো কি আর বেশিদিন চলবে?’

আপনার এগুলো পছন্দ হতে পারে