News before News

রায়ে সন্তুষ্ট রূপার পরিবার

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার পরিবার।

সোমবার রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে রূপার ভাই হাফিজুল ইসলাম প্রামাণিক সমকালকে বলেন, ‘এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। হত্যাকারীদের মৃত্যুদণ্ডের মধ্য দিয়ে আমার বোনের আত্মা শান্তি পাবে।’

তিনি দ্রুত এ রায় কার্যকরের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আমি চাই, আমার বোনের মত আর কেউ যেন এ ধরনের ঘটনার শিকার না হন। দেশের অন্য বিচারপ্রার্থীরা যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়।’

আদালত প্রাঙ্গণে ভাইয়ের সঙ্গে থাকা রূপার ছোট বোন পপি খাতুন বলেন, ‘অল্প সময়ে রায় দেওয়ায় আমরা আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমরা আরো কৃতজ্ঞ মামলাটির বিচারিক কাজের সঙ্গে যারা জড়িত আছেন তাদের প্রতি। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই আইনের সকল প্রক্রিয়া শেষ করে আসামিদের ফাঁসি কার্যকর হলেই আমার মৃত বোনের আত্মা শান্তি পাবে এবং আমরা খুশি  হবো। আমাদের পরিবারের উপার্জনক্ষম ও মেধাবী সম্ভবনাময় বড় বোন জাকিয়া সুলতানা রূপার যে নির্মম ও করুণ মৃত্যু হয়েছে তা যেন এই দেশের আর কারো পরিবারে না হয়। আর এ কারণেই দেশে দৃষ্টান্ত রাখতে খুনিদের ফাঁসি কার্যকর করার জোর দাবি রাখি।’

স্বল্প সময়ে রায় প্রকাশ করায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রূপার মা হাসনা হেনা (৬০) বলেন, ‘আমার জীবদ্দশায় আমার কলিজার টুকরো মেয়ে রূপাকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি কার্যকর দেখে যেতে চাই দ্রুততম সময়ে।’

এর আগে সকাল ১১টার দিকে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে চার আসামি— ময়মনসিংহ-বগুড়া সড়কের ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর (৪৫) এবং হেলপার আকরাম (৩৫), শামীম (২৬) ও জাহাঙ্গীরকে (১৯) মৃত্যুদণ্ড এবং অপর আসামি বাসের সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫) ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন আদালত।

গত বছরের ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রূপাকে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ করে পরিবহন শ্রমিকরা। বাসেই তাকে হত্যার পর মধুপুর উপজেলায় পঁচিশমাইল এলাকায় বনের মধ্যে মরদেহ ফেলে রেখে যায় তারা।

এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে মধুপুর থানা পুলিশ ওই রাতেই অজ্ঞাতপরিচয় নারী হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে রূপার মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্তানে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় গণধর্ষণ ও হত্যা মামলা করে। পরদিন পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি দেখে তার ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় গিয়ে ছোট বোন রূপার লাশ শনাক্ত করেন।

ঢাকার আইডিয়াল ল’ কলেজের ছাত্রী রূপা একটি কোম্পানির বিপণন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আসাবাড়ি গ্রামে।

আপনার এগুলো পছন্দ হতে পারে