News before News

রূপগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমির মাটি কেটে নিয়েছে চোরচক্র

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাটি চোরেরদল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রায় কয়েক বিঘা জমি গভীর খনন করে মাটি লুট করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রশাসনের চোখ ফাকি দিয়ে এসব জমির মাটি অবৈধ ভাবে কেটে স্থানীয় ইটভাটা গুলোতে বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে। গভীর খনন করার কারনে আশপাশের কৃষি জমি, বাড়িঘর, নারকেল বাগান, মাছের খামার ও শিল্পকারখানা ধসে পড়ছে। ধসে পড়ার ফলে স্থানীয়দের ইতো কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্থ্যরা দাবী করছে। জনমনে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।

স্থানীয় প্রশাসন পরপর দু’বার মাটি কাটা বন্ধ করে দেওয়ার পরও মাটি চোরেরা অনেকটা দম্ভোক্তি দেখিয়েই মাটি লুট করে বিক্রি করে দিচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন বাঁধা দিতে গেলে চোর চক্রের মনোনীত বাহিনীরা হুমকি ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়। তবে অভিযুক্ত চক্রটির দাবী, তারা তাদের নিজের ও কেনা জমির মাটি বিক্রি করছে। গত দুই দিন আগেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল ফাতে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন মাটিবহনকারী ট্রাক যাতে চলাচল করতে না পারে, সেজন্যে অবৈধ ভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে নির্মাণ করা রাস্তা কেটে দেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের ভুলতা মৌজার কর্নগোপ, মিরকুটিছেও, মাঝিপাড়া, মাছিমপুরসহ আশপাশের এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধিগ্রহনকৃত ক্যানেলের কয়েক বিঘা জমি জবরদখল করে মাটি কেটে স্থানীয় ইটভাটাগুলোতে বিক্রি করে দিচ্ছে। মাছিমপুর এলাকার ভূমিদস্যু স্বপন ভুইঁয়া, আবু ভুইয়া, খোকন ভুইয়াসহ একটি সংঘবদ্ধ মাটি চোরচক্র প্রভাব দেখিয়ে জমি গভীর খাদে পরিণত করেছে। গত কয়েক বছর ধরে এ চক্রটি সরকারী জমির মাটি ইটভাটায় বিক্রি করে আসছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ চক্রটি আশপাশের ইটভাটাগুলো থেকে দাদন নেয়। পরে তারা চুক্তি অনুযায়ী ঐসব ইটভাটায় মাটি সরবরাহ করে। একেকটি ইটভাটা থেকে বছরে ৫ লাখ টাকা দাদন নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। প্রতিবছর এ মৌসুমে সরকারী জমির মাটি বিক্রি করে এ চক্রটি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

গতকাল সোমবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ট্রাক ও ভেকু দিয়ে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। একেক স্থানে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ ফুট গভীর খাদে পরিণত করা হয়েছে। মাটি কেটে গভীর খাদ করার ফলে ধ্বসে পড়েছে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের বেড়িবাঁধ। ধ্বসে পড়ছে আশপাশের বাড়িঘর, কৃষিজমি, গাছপালা আর শিল্পকারখানা।

স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, যেভাবে সরকারী জমি দখল করে মাটি কেটে গভীর করছে। তাতে আশপাশের কৃষিজমি, বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট ভেঙ্গে যাচ্ছে। মানুষ আতঙ্কে আছে।

জমির মালিক কাশেম গাজী বলেন, আমার ওই এলাকায় ১৭ বিঘা জমি রয়েছে। সরকারী জমির মাটি কেটে গভীর করার কারণে আমার পুকুর পাড়ের নারিকেল বাগান ও তালগাছ ধসে পড়েছে। ধসে পড়েছে মাছের খামারও। তিনি বলেন, মাটির কাটার সাথে জড়িতদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা বলেছে ক্ষতিপূরণ দিয়ে দিবে।

এ ব্যাপারে মাটির কাটার সাথে জড়িত জমির মালিক দাবিদার মোঃ স্বপন ভুইয়া বলেন, আমার বাবা আফজাল হোসেনের ক্রয়কৃত ৩ বিঘা জমি থেকে আমরা মাটি কেটে নিয়েছি। সরকারী কোন জমির মাটি আমরা কাটি নাই। বর্তমানে জমির মাটি কাটা বন্ধ আছে।

এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সামসুল আলম বলেন, ঘটনা জেনে আমাদের কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছিলাম। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ হাসান মিয়া জুয়েল বলেন, খবর পেয়ে আমি, ষ্টেশন অফিসার ( ল্যান্ড ) জাহাঙ্গীর হোসেন, রাজস্ব সার্ভেয়ার জাকারিয়াকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। জমি মাপতে গেলে স্থানীয় কিছু লোক এগিয়ে এসে বাঁধা দেয়। পরে তাদের বাঁধার মুখে আমরা চলে আসি। তবে অচিরেই পাউবোর জমি মাপ দিয়ে নির্ধারণ করা হবে।

সহকারী কমিশনার ( ভূমি ) আসাদুজ্জামান বলেন, ভুলতা মৌজায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ( পাউবো) ১ বিঘা জমি রয়েছে। শুনেছি মাছিমপুর এলাকার কয়েকজন মিলে মাটি কেটে নিয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল ফাতে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশক্রমে ঘটনাস্থলে আমি নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। ট্রাকযোগে মাটি আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত সড়কটি কেটে ফেলা হয়। পরে তারা বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে রাতের আঁধারে মাটি কেটে নিয়েছে। খবর পেয়ে ঐ সড়কটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেশ কিছু জমি পারটেক্স গ্রুপও জবরদখল করেছে বলে আমাদের কাছে অভিযোগ রয়েছে।

আপনার এগুলো পছন্দ হতে পারে