News before News

রূপগঞ্জে হত্যা করে নিহতের নামেই হত্যা মামলা দায়ের, গ্রেফতার ৯

ইকবাল হোসেন নামে এক কর্মচারীকে হত্যা করে উল্টো তার নামেই সোহেল মিয়া নামে আরেক কর্মচারী হত্যার ঘটনায় ওই শ্রমিককে প্রধান আসামী করে মামলা দায়েরের ঘটনায় নয় জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে রাজধানীর কদমতলী এলাকার কথা এন্টারপ্রাইজ প্রেস নামের কারখানা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, রূপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রদ্যুত সরকার।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থানার মীরছাতিয়ান এলাকার জনি, টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর এলাকার কৃক্রাদিয়ারকুল এলাকার হাসান শেখ, কান্দাপাচুরিয়া এলাকার আব্দুর রহমান, মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় থানার বক্সচর এলাকার শাহজাহান, রাজধানীর নবাবগঞ্জ বালিঙ্গা এলাকার আসাদ মিয়া, গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা থানার দক্ষিণ দিঘলকান্দি এলাকার সোহেল খাঁন, রাজধানীর কদমতলী পাটেরবাগ এলাকার খন্দকার মহসিন আলী ভুইয়া, ইমরান শেখ ও রূপগঞ্জ উপজেলার ভিংরাব এলাকার আশিকুর রহমান আশিক।

গত বছরের নভেম্বর মাসে রূপগঞ্জ উপজেলার বরপা এলাকার বিক্রমপুর ষ্টীল মিলের সামনে থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় রাজধানীর কদমতলী এলাকার কথা এন্টারপ্রাইজ প্রেসের কর্মচারী ইকবাল হোসেনের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। লাশ উদ্ধারের পর ইকবালের পরিবারের পক্ষ থেকে রূপগঞ্জ থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। প্রায় তিন মাস পর পাওয়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হত্যার আলামত পাওয়ায় গত রোববার (১১ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে অপমৃত্যুর মামলাটি হত্যা মামলায় রুজু করা হয়। মামলার বাদী হন নিহত ইকবাল হোসেনের স্ত্রী পারভীন বেগম। অভিযোগ, ঐ প্রেসের মালিক ও কয়েকজন কর্মচারী তাকে হত্যা করে উল্টো তার নামেই সোহেল মিয়া নামে আরেক কর্মচারী হত্যার ঘটনায় কদমতলী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। ঘটনাটি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

টাঙ্গাইল জেলার নাগেরপুর থানার ঘুনিপাড়া এলাকার ইকবাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর শনিআখড়ার কদমতলীর ইমরান মিয়ার মালিকানাধীন কথা এন্টারপ্রাইজ প্রেসে কর্মরত ছিলেন।

মামলার বাদী পারভীন আক্তার জানান, গত বছরের ৬ নভেম্বর কথা প্রেসের কর্মচারী হাসান মিয়া ও জনি মিয়া মোবাইল ফোনে তাকে জানায়, তার স্বামী ইকবাল হোসেন একই প্রেসের কর্মচারী সোহেল মিয়াকে কারখানায় হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে পালিয়ে যায়। পরে সোহেল মিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ইকবাল হোসেন হত্যাকান্ডের মামলার আসামী পক্ষ নিহত সোহেলের বড় ভাই সাইদুল ইসলামকে বাদী হয়ে ইকবাল হোসেনকে প্রধান আসামী করে কদমতলী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এদিকে, সোহেল মারা যাওয়ার ঠিক তিনদিন পর রূপগঞ্জ উপজেলার বরপা বিক্রমপুর ষ্টীল মিলের পেছন থেকে ইকবাল হোসেনের অর্ধ-গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে নিহতের ভাতিজা বাবুল হোসেন মোবাইল ফোনে পারভীন বেগমকে ঘটনার কথা জানায়। পরে এ ঘটনায় বাবুল মিয়া বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে। ঘটনার তিন মাস পর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হত্যা আলামত পাওয়া যায়। পরে রোববার দুপুরে কথা প্রেসের মালিক ইমরান মিয়াসহ অন্য কর্মচারীদের আসামী করে রূপগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন ইকবাল হোসেনের স্ত্রী পারভিন বেগম। এ ঘটনায় নয় জনকে গ্রেফতার করা হয়।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। অল্প সময়ের মধ্যে হয়তো হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটিত হবে।

আপনার এগুলো পছন্দ হতে পারে