ইভটিজিং রোধে ছাত্রীদের অভিনব যে বুদ্ধি দিলেন শামীম ওসমান

নারায়াণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান শিক্ষার্থীদের ডেকে নানা অভিযোগের কথা শুনতে চাইলে এক ছাত্রী তার কাছে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ তুলে এর প্রতিকার চান। জবাবে শামীম ওসমান তাকে অভিনব বুদ্ধি দেন এবং সকল ছাত্রীদের এক হয়ে ইভটিজিং প্রতিরোধ করতে বলেন। ছাত্রদেরকে তাদের বোনদের পাশে সহায়তার জন্য বলেন।
রবিবার (২৯ জুলাই) বিকেলে নারায়াণগঞ্জ ইসদাইর রাবেয়া হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ে নব নির্মিত ভবন ও ভাষা সৈনিক নাগিনা জোহা স্মৃতি পাঠাগার ও বিজ্ঞানাগারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে শিক্ষার্থীদের ডেকে তাদের কথা শুনেন শামীম ওসমান, এসময় দশম শ্রেণীর ছাত্রী খাদিজা আক্তার তার কাছে অভিযোগ করেন মেয়েরা ইভটিজিংয়ের ভয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেনা। পথে বের হলেই কিছু কিছু বাজে ছেলে বাজে মন্তব্য করে এবং ইভটিজিং করে। এদের প্রতিরোধ করার জন্য শামীম ওসমানকে অনুরোধ করেন তিনি।
মেয়েরা অভিযোগ করেছো যে তোমাদের ইভটিজিং করা হয়। এটি খুবই খারাপ দিক। যদি তোমরা শামীম ওসমানের মেয়ে হতে তাহলে কি ভয় পেতে। প্রথমে সবাই একত্রিত হবে পরে ইভটিজারকে একজন প্রতিহত করবে আর পরে সবাই মিলে একসাথে প্রতিহত করবে। পায়ের পুরাতন জুতা দিয়ে ইভটিজারকে মারবে। ভালো লাগতেই পারে বন্ধুত্ব হতেই পারে সেটি ভিন্ন কথা কিন্তু ইভটিজিং মারাত্মক অপরাধ।
প্রথমে সবাই একটি গ্রুপ হবে। তারপর ইভটিজারের কাছে যাকে বিরক্ত করে যে যাবে এখন তাকে প্রতিহত করবে ও কথা বলে বারণ করবে কিন্তু যদি সে কথা না শুনে তাহলে পেছনে থাকা গ্রুপের সবাই মিলে পুরাতন জুতা স্যান্ডেল দিয়ে তাকে শায়েন্তা করবে। ভয় পাবেনা, তোমাদের ভাইয়েরাও তোমাদের পাশে থাকবে। এসময় ছেলেরাও হাত তুলে মেয়েদের পাশে থাকার কথা বলেন।
পরে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নিজের মোবাইল নাম্বার দিয়ে শামীম ওসমান বলেন, তোমরা আমার সন্তান। আমার সন্তান হয়ে আমার একটি কাজ করো, এলাকায় কোথায় কোথায় মাদক ব্যবসা হয়, কে করে, কোথায় ইভটিজিং হয় কারা করে এবং কোথায় চাঁদাবাজি হয় আমাকে জানাও। তোমাদের পরিচয় গোপন থাকবে তবে তোমাদের হাতে পারে ধরি কারো কথা শুনে মিথ্যা তথ্য দিও না কারণ একবার দুইবার তিনবার যখন তোমাদের তথ্য আমি গোপনে যাচাই করে দেখবো মিথ্যা পরে সত্যিই তোমরা বিপদে পড়লে আমাকে আর কাছে পাবেনা আমি মনে করবো মিথ্যা। তোমরা আমাকে আমার নাম্বারে তথ্য দিবে সে যেই হোক যদি আমার পাশে বসা কেউই হয় তাহলেও ভয় পাবেনা। আমার কাছে কারো ছাড় নেই।
এতে আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম চেঙ্গিস, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমান, সদস্য রোমান চৌধুরী সুমন প্রমুখ।
আপনার এগুলো পছন্দ হতে পারে