কেন ঘন্টার পর ঘন্টা একটা ড্রেনের জন্য বসে থাকতে হবে, প্রশ্ন শামীমের

নারায়াণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, আমি নিজেও কিছুটা অবাক হয়েছি সকলের দোয়ায় ৭১০২ কোটি টাকার কাজ করেছি এই আমলে। ঢাকা নারায়াণগঞ্জ লিংক রোডে ১৪ কোটি টাকার বরাদ্দ দিয়েছি রাস্তা নষ্ট হতেই পারে। তারপর আবার ১৮ কোটি টাকার বরাদ্দ করালাম। সিটি করপোরেশনের ছোট্ট একটা ড্রেনের কাজের জন্য এই রাস্তার কাজ শুরু করা যাচ্ছেনা। এটা করতে ৬ মাস লাগে, এটার জন্য মানুষ কেন কষ্ট করবে। ঘন্টার পর ঘন্টা এই সড়কের জন্য মানুষকে যানজটে বসে থাকতে হবে কেন ?
রবিবার (২৯ জুলাই) বিকেলে নারায়াণগঞ্জ ইসদাইর রাবেয়া হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ে নব নির্মিত ভবন ও ভাষা সৈনিক নাগিনা জোহা স্মৃতি পাঠাগার ও বিজ্ঞানাগারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, আগামী বর্ষায় এই ডিএনডি এলাকার এখানে আর পানি জমবেনা কথা দিলাম। আমি এখানে বসে সেনাবাহিনীর সাথে কথা বলেছি, জিজ্ঞাসা করেছিলাম আমি আমার জনগনকে কি বলবো। আমি তো ঢাকা থেকে পার্লামেন্টে কথা বলে টাকা বরাদ্দ আনলাম।
টাকা কারো বাপের না এটা জনগনের টাকা। মানুষের হাত পা ধরে টাকা আনতে হয়। অন্যান্য মন্ত্রীরা পেয়েছে ২৫ কোটি করে আমি আনলাম ৮৫ কোটি টাকা অনেক কষ্ট করে। ৪১ টি রাস্তার কাজের জন্য, তারপরও বলে এখানে রাস্তার অনুমোদন নাই নাম নাই। আপনারা প্রশ্ন করেন কেন রাস্তার পাশে ময়লা ফেলে রাখা হয়, কেন সড়কে পানি জমবে। নির্বাচন আবার করবো কি করবোনা এটা পরের কথা, আগামীকাল বাঁচি কিনা ঠিক নাই। আমি মানুষের সেবা করে যেতে চাই, শুধু  আপনাদের দোয়া চাই। আমি কোন সন্ত্রাসী চাইনা, কোন মাদক ব্যবসায়ীর ছাড় নাই আমার কাছে। আমি এমন নারায়াণগঞ্জ চাই যেখানে রাতে ভালো না লাগলে দুই বোন নির্ভয়ে সড়কে হাটতে পারবে, বলেন শামীম ওসমান।
তিনি বলেন, সারাদেশের ১০ টি বিদ্যালয় পাশ হয়েছে যার মধ্যে আমি দুটি নারায়াণগঞ্জের জন্য নিয়ে এসেছি। লিংক রোডের পাশে তিন বিঘা যায়গায় ১০ তলা বিদ্যালয়, একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মান করবো, প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত। আমার নারায়ণগঞ্জবাসীর যেন জেলার বাইরে কোথাও যেতে না হয় সেরকম উন্নত নারায়ণগঞ্জ আমি স্বপ্ন দেখি।
পরে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নিজের মোবাইল নাম্বার দিয়ে শামীম ওসমান বলেন, তোমরা আমার সন্তান। আমার সন্তান হয়ে আমার একটি কাজ করো, এলাকায় কোথায় কোথায় মাদক ব্যবসা হয়, কে করে, কোথায় ইভটিজিং হয় কারা করে এবং কোথায় চাঁদাবাজি হয় আমাকে জানাও। তোমাদের পরিচয় গোপন থাকবে তবে তোমাদের হাতে পারে ধরি কারো কথা শুনে মিথ্যা তথ্য দিও না কারণ একবার দুইবার তিনবার যখন তোমাদের তথ্য আমি গোপনে যাচাই করে দেখবো মিথ্যা পরে সত্যিই তোমরা বিপদে পড়লে আমাকে আর কাছে পাবেনা আমি মনে করবো মিথ্যা। তোমরা আমাকে আমার নাম্বারে তথ্য দিবে সে যেই হোক যদি আমার পাশে বসা কেউই হয় তাহলেও ভয় পাবেনা। আমার কাছে কারো ছাড় নেই।
আর মেয়েরা অভিযোগ করেছো যে তোমাদের ইভটিজিং করা হয়। এটি খুবই খারাপ দিক। যদি তোমরা শামীম ওসমানের মেয়ে হতে তাহলে কি ভয় পেতে। প্রথমে সবাই একত্রিত হবে পরে ইভটিজারকে একজন প্রতিহত করবে আর পরে সবাই মিলে একসাথে প্রতিহত করবে। পায়ের পুরাতন জুতা দিয়ে ইভটিজারকে মারবে। ভালো লাগতেই পারে বন্ধুত্ব হতেই পারে সেটি ভিন্ন কথা কিন্তু ইভটিজিং মারাত্মক অপরাধ।
এতে আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম চেঙ্গিস, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমান, সদস্য রোমান চৌধুরী সুমন প্রমুখ।
আপনার এগুলো পছন্দ হতে পারে