পাকা আম শরীরে কী কাজ করে?

আম বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ ফল। স্বাদে অনন্য আমকে তাই ফলের রাজা বলা হয়। আম ভিটামিন এ, সি, ই এবং বি-কমপ্লেক্সের উৎস। আম জটিল রোগের পাশাপাশি ফ্লেভোনিওয়েড যেমন বিটা-ক্যারোটিন এবং আলফা-ক্যারোন্টিন উদ্ভাবনের একটি চমৎকার উৎস।

আম ক্যান্সারবিরোধী শক্তিশালী ফল। আম ফুসফুস, স্তন, কোলন, প্রোস্টেট, রক্ত এবং মুখগহ্বর ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

আম স্ট্রোক, হৃদরোগ, আর্থ্রাইটিস, বোধশক্তি লোপ, শ্বাসযন্ত্রের রোগ এবং কিডনি রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত উপকারী। কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমানোর জন্য আমের টক, মিষ্টি ও শীতলীকরণ শক্তিকে বিবেচনা করা হয়। আম বিষাক্ত অ্যাসিড দূর করে এবং শরীরের মধ্যে ক্ষারত্ব তৈরিতে সাহায্য করে।

এক কাপ পাকা আম খেয়ে সারাদিনের ভিটামিনের চাহিদার ২৫% পূরণ করা সম্ভব। আম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে খুবই কার্যকর। আসুন দেখে নেওয়া যাক পাকা আম আমাদের শরীরে কী কী কাজ করে।

  • পাকা আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, যা হাড় সুগঠিত করে। তাই আম হাড় ও দাঁতের সুস্থতা বজায় রাখতে অনেক সাহায্য করে।
  • আম ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান পালন করে। এক গবেষণায় দেখা যায়, পাকা আমে এন্টি-অক্সিডেন্ট ও উচ্চ পরিমাণ খাদ্য আঁশ থাকায় কোলন ক্যান্সার, স্তন ক্যান্সার, রক্তস্বল্পতা, লিউকেমিয়া ও প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। এ ছাড়াও ক্যারোটিন, আইসো-কেরোটিন, এস্ট্রাগ্যালিন, ফিসেটিন, গ্যালিক এসিড ইত্যাদি এনজাইম ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
  • আমে উচ্চমাত্রার আঁশ ও এন্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় হৃদরোগের সম্ভাবনাকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়। এর আঁশ হজমক্রিয়াতে সাহায্য করে, ফলে দেহের বাড়তি ক্যালরি ক্ষয় রোধে এটি অনন্য ভূমিকা রাখে। আমের আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধের জন্য খুবই কার্যকর।
  • আমকে ‘লাভ ফ্রুট’ও বলা হয়। এটা পুরুষের পুরুষত্ব বাড়াতে সাহায্য করে। আমে ভিটামিন ‘ই’ সেক্স হরমোনকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
  • আমে থাকা উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘সি’, পেকটিন ও আঁশ কোলস্টেরলের ক্ষতিকর মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। আম উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দনও নিয়ন্ত্রণ করে। আমে থাকা ভিটামিন ‘সি’ স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ, দাঁত, মাড়ি, ত্বক ও হাড়ের সুস্থতা রক্ষা করতে সাহায্য করে।
  • আমে ভিটামিন ‘বি১’, ‘বি২’, ‘বি৫’, ‘বি৬’, নায়াসিন এবং ফলিক এসিড রয়েছে। ফলিক এসিড গর্ভবতী নারীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ এসিড জন্মগত ত্রুটির সম্ভাবনা কমায়।
  • আম দৃষ্টিশক্তিকে উন্নত করতে সাহায্য করে, চোখের শুষ্কতা ও রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে।
  • আমের উচ্চমাত্রার আয়রন রক্তশূন্যতা দূর করে এবং অ্যানিমিয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে।
  • আম বয়সজনিত কারণে পেশির ভঙ্গুরতা প্রতিরোধ করে পেশিকে সুদৃঢ় করতে সহায়তা করে।
  • আমে বিদ্যমান পটাশিয়াম রক্তস্বল্পতা দূর করে ও হৃদযন্ত্র সচল রাখতে সাহায্য করে।
  • পাকা আমে থাকা ভিটামিন ‘সি’ কোলাজেনের উৎপাদনে সাহায্য করে, যার ফলে ত্বক সতেজ ও টানটান হয়।
  • আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘ই’, যা ত্বক ও চুলের জন্য অত্যন্ত উপকারী। পাশাপাশি আম ত্বকের লোমকূপ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে, যা ব্রণের ও ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে।
  • আম ত্বক উজ্জ্বল করতেও সাহায্য করে এবং সূর্যের বেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
  • আমের উচ্চ মাত্রার গ্লুটামাইন এসিড মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
  • আমে থাকা উচ্চ বিটা ক্যারোটিন অ্যাজমা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  • পাকা আমে রয়েছে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট, যা কর্মশক্তি প্রদানে সাহায্য করে। আম গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পরিমিত পরিমাণ আম শরীরে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখে তবে অতিরিক্ত আম খাওয়া ক্ষতিকর।
আপনার এগুলো পছন্দ হতে পারে