প্রবীর ও স্বপনের পরিবারের সাথে পুলিশ সুপার ও মামলা তদন্তকারী অফিসারে সাক্ষাৎ

বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জে স্বর্ন ব্যাবসায়ী প্রবীর ও কাপড় ব্যবসায়ী স্বপনের হত্যা মামলার বাদী ও পরিবারের লোকজন পুলিশ সুপার মঈনুল হক ও মামলা তদন্তকারী অফিসার মপিজুল ইসলাম পিপিএম এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন।

রোববার (২৯ জুলাই) দুপরে জেলা পুলিশ সুপারে কার্যলয়ে এ সাক্ষাত করেন। এসময় প্রবীর ও স্বপনের মালার বাদিরা মামলার তদন্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া অভিযুক্তদের সর্বচ্চো শাস্তি দাবি করেন।

প্রবীর হত্যা মামলার বাদি বিপ্লব চন্দ্র ঘোষ জানান, মামলার তদন্ত নিয়ে আমি ও আমার পরিবার সন্তুষ্ট। এখন শুধু আমাদের দাবি অপরাধীর যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয়।

স্বপন হত্যা মামলার বাদী অজিত কুমার জানান, মামলা দ্রুত তদন্ত শেষ করে অপরাধীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করানো হোক। আমারা যেন তার বিচার দেখে যেতে পারি।

মামলার তদন্তকারী অফিসার উপ পরিদর্শক (এসআই) মফিজুল ইসলাম পিপিএম জানান, মামলার সমস্ত কার্যক্রম শেষ করে অতি দ্রুতই অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে।

জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক জানান, মামলার কার্যক্রম অতি দ্রুত শেষ করে অভিযোগ পত্র আদালতে দাখিল করা হবে। যেন অপরাধীদের দ্রুত শাস্তি হয়।

উল্লেখ্য নিখোঁজের ২১ দিন পর ৯ জুলাই রাত ১১টায় শহরের আমলপাড়া এলাকার রাশেদুল ইসলাম ঠান্ডু মিয়ার ৪ তলা ভবনের নিচে সেপটিক ট্যাংক থেকে প্রবীরের খন্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘাতক পিন্টু ওই বাড়ির দুই তলার একটি ফ্লাটে বসবাস করতো। গত ১৮ জুন রাত থেকে প্রবীর নিখোঁজ ছিল। তার সন্ধান দাবিতে দফায় দফায় আন্দোলন চালিয়ে আসছিল স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা। স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ কালিরবাজার স্বর্ণপট্টির ভোলানাথ জুয়ের্লাসে মালিক ভোলানাথ ঘোষের ছেলে।

নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ কাচারীগলি এলাকার মৃত সোনাতন চন্দ্র সাহার ছেলে কাপড় ব্যবসায়ী ও পাসপোর্ট অফিসের দালাল স্বপন কুমার সাহা, আমলাপাড়া এলাকার স্বর্ণব্যাবসী পিন্টু ও স্বর্ণব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ ছিলেন একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আর রত্মা রানী ছিলেন পিন্টুর ঘনিষ্ঠ বান্ধুবী। বিয়ে আশ্বাস দিয়ে রত্মা রানীর কাছ থেকে সাত লাখ টাকা ধার নেয় পিন্টু। এরপর থেকে রত্মা রানী প্রায় সময় পিন্টুর ফ্ল্যাটে যাতায়াত করত এবং তাদের মধ্যে অবৈধ যৌন মেলা মেশা চলত। পিন্টুকে ভারতে বাড়ি কিনে দেয়ার প্রলোভন দেখায় স্বপন। এরপর ভারতে নিয়ে একটি ফ্ল্যাটও পিন্টুর টাকায় স্বপন তার ভাগ্নির নামে কিনে দেয়। তখন পিন্টুকে স্বপন বলে ছিল ভারতে নাগরিত্ব করিয়ে তার ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দিবে। কিন্তু তা না করে পিন্টুকে ঘুরাতে থাকে স্বপন। একই সঙ্গে প্রবীর ঘোষের সাথে মিলে পিন্টুকে নানা ভাবে হয়রানী করতে পরামর্শ করে স্বপন। এদিকে ভারতের ওই ফ্লাট পিন্টুকে বুঝিয়ে না দেয়ায় আমলাপাড়া এলাকার বড় ভাই হিসেবে পরিচিত আব্দুল্লাহ আল মোল্লা মামুনকে টাকা তুলে দেয়ার কন্ট্রাক্ট দেয় পিন্টু। তখন পিন্টুর পক্ষ নিয়ে স্বপনকে টাকা ফেরত দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টিসহ নানা ধরনের হুমকীও দিত মোল্লা মামুন। কিন্তু তাতেও কোন ধরনের কাজ না হওয়ায় স্বপনকে হত্যা করার পরিকল্পনা করতে থাকে পিন্টু। পরে ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর রাতে রত্নার ফ্ল্যাটে স্বপনকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। ওই কিলিং মিশনে ছিল রতœা ও তার প্রেমিক পিন্টু দেবনাথ।

আপনার এগুলো পছন্দ হতে পারে