বিসিক শিল্পনগরীতে সরকারী জমিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাইলিং

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার শাসনগাওয়ে অবস্থিত বিসিক শিল্পনগরীতে অনিয়মের মাধ্যমে ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীর শত কোটি টাকা মূল্যের ১৫টি প্লট মাত্র পৌনে ২ কোটি টাকায় বরাদ্দ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনিয়মের মাধ্যমে প্লট বরাদ্দ পেলেও অদ্যাবধি জমির রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন হয়নি। এর আগে গত ২৩ জানুয়ারী ওই ৩০টি প্লটে কোন ধরনের কার্যক্রম না চালাতে ১ বছরের জন্য স্থগিতাদেশ জারি করেছিলেন আদালত। তবে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রেজিষ্ট্রি ছাড়াই সরকারী জমিতে ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে পাইলিং এর কার্যক্রম চালাচ্ছে একাধিক বেসরকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে বিসিকের নির্দেশনারও কোন তোয়াক্কা করছেনা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকরা।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের হোসিয়ারি শিল্পটির অস্তিত্ব রক্ষায় নারায়ণগঞ্জের হোসিয়ারি শিল্প ইউনিটকে কেন্দ্রীভূত করে পুনর্বাসন ও নতুন কারখানা স্থাপনে ১৯৮৫ সালে মনোটাইপ শিল্পনগর স্থাপনের পরিকল্পনা নেয় সরকার। ১৯৮৮-৮৯ সালে বিসিক শিল্পনগরীতে ৩ কাঠা এবং ৫ কাঠা আয়তনের প্লট বরাদ্দ দেয়ার আহবান করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিসিক কর্তৃপক্ষ। পরে ১৯৯০ সালে বিসিক, শিল্প মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ হোসিয়ারি এসোসিয়েশনের উদ্যোগে পঞ্চবটীর শাসনগাঁও এলাকায় ৫৮ দশমিক ৫২ একর জায়গার ওপর বিসিক হোসিয়ারি শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠা করা হয়। হোসিয়ারি শিল্পনগরীর ৭১৪টি ইউনিটের মধ্যে পাঁচ কাঠার ১৮৬টি বড় প্লট এবং তিন কাঠার ৫২৮টি ছোট প্লট।

এদিকে ১৯৮৮-৮৯ সালে বিসিক শিল্পনগরীর বিজ্ঞপ্তি দেখে ৩০টি প্লটের জন্য ২৩ জন ব্যবসায়ী বিসিক এর ব্যাংক একাউন্ট অর্থাৎ জনতা ব্যাংক এসটিডি-৭ ছৈয়দ আলী চেম্বার শাখায় অর্থ জমা দিয়ে বাংলাদেশ হোসিয়ারী সমিতির নিকট থেকে রশিদ গ্রহণ করেন। তবে দীর্ঘদিনেও তাদেরকে ওই প্লটগুলো বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। বরং বিরোধপূর্ণ ওই প্লটগুলোকে ২০১৬ সালের জুন মাসে বর্গফুট হিসেবে ১৪ জন শিল্প মালিকের কাছে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেয় বিসিক কর্তৃপক্ষ। নিয়মানুযায়ী ক্ষুদ্র হোসিয়ারী ব্যবসায়ীরা প্লট পাওয়ার কথা থাকলেও প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের। বরাদ্দ পাওয়া ১৪ জনের মধ্যে মাত্র ৩ জন হোসিয়ারীর মালিক। বাকী ১১জনই হলেন গার্মেন্ট মালিক। ওই ১০টি গার্মেন্ট হচ্ছে ইনোভেটভ টেক্স লিমিটেড, পেনটেক্স ড্রেস লিমিটেড, ফোর ডিজাইন লিমিটেড, মেসার্স জামাল নীট এন্ড গার্মেন্টস, মেসার্স শিমু নীট ওয়্যার, মেসার্স ইশা নীট ফ্যাশন, স্কারলেট নীট ওয়্যার, মেসার্স ইয়াংফা ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স এইচ কে নীট ফ্যাশন, সৃষ্টি ফ্যাশন লিমিটেড, মিলান বাংলা ট্রেডিং কোম্পানী লিমিটেড।

এদিকে দীর্ঘদিনেও প্লট বুঝিয়ে না দেওয়ায় এবং বর্তমান বাজারদরের কম মূল্যে প্লটগুলো বিক্রি করে দেয়ায় এ বিষয়ে ওই ২৩ জন ব্যবসায়ীর পক্ষে ওসমান গনি গং হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করলে ২০১৭ সালের ১ আগষ্ট বিচারপতি নাঈমা হায়দার এবং বিচারপতি আবু তাহের মোহাম্মদ সাইফুর রহমানের দ্বৈত বেঞ্চ ওই ৩০টি প্লটে কোন ধরনের কার্যক্রম না করতে ৬ মাসের জন্য স্থগিতাদেশ জারি করেন। এরপর ২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারী হাইকোর্টের বিচারপতি নাঈমা হায়দার এবং জাস্টিস জাফর আহমেদ এর দ্বৈত বেঞ্চ আরো ১ বছরের জন্য স্থগিতাদেশ জারি করেন। এছাড়া ওই ২৩ জন ব্যবসায়ী বাদি হয়ে ২০১৭ সালের ২৯ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা (নং ৮৬৬/২০১৭) দায়ের করেছেন। চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারী বিরোধপূর্ণ ওই ৩০টি প্লটে আদালতের নিষেধাজ্ঞার সাইনবোর্ড সাটানো হয়েছিল।

এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, বিরোধপূর্ণ ওইসকল জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞার সাইনবোর্ড উপড়ে ফেলা হয়েছে। বরং বেশ কিছু প্লটে বর্তমানে আদালতের নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করেই চলছে বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে পাইলিং এর কার্যক্রম। অনেকগুলো প্লটে নির্মাণ শ্রমিকদের রড বাধাইয়ের কাজ করতেও দেখা গেছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জস্থ বিসিক শিল্পনগরীর সহকারী মহা ব্যবস্থাপক (এজিএম) বদিউজ্জামান খান জানান, ওই প্লটগুলোতে কোন ধরনের কার্যক্রম না চালানোর জন্য আদালত ১ বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া কিছু কিছু মালিক সেখানে স্থাপনা নির্মাণের কার্যক্রম চালাচ্ছেন। বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচরে আসার পরে আমরা তাদেরকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কোন ধরনের কাজ না করতে নিষেধ করেছি। কিন্তু তারা আমাদের কথা শুনছেনা। আমরা এ বিষয়ে বিসিকের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ছাড়াও নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বিকেএমইএ, বাংলাদেশ হোসিয়ারী এসোসিয়েশন ও বিসিক শিল্পনগরীর গার্মেন্ট মালিক সমিতির সভাপতিকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করেছি। কমমূল্যে প্লট বরাদ্দের বিষয়ে বলেন, বিসিকের কোন এলাকার জমির দর কত হবে সেটা নির্ধারণ করে দেয় সরকার। এ বিষয়ে আমাদের কিছুই করার থাকেনা।

আপনার এগুলো পছন্দ হতে পারে